শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর ডিমোনা ও আরাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় কয়েক ডজন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষত, ডিমোনা শহরে ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রাগার থাকায় এই আঘাতকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলি উদ্ধারকর্মীদের মতে, আহতদের অধিকাংশই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাত বা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও মিলেছে।
এদিনের হামলায় ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ ‘ডেভিডস স্লিং’ (David's Sling) ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে চালু হওয়া এই সিস্টেমটি মূলত ভারী রকেট ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হলেও, অ্যারো ইন্টারসেপ্টরের মজুত ধরে রাখতে এবার একে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিস্টেমের সফল আপগ্রেডের ঘোষণা দিয়েছিল, তবে শনিবারের বাস্তব পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অবশ্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এ পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯২ শতাংশই তারা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট