মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন আগত নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জন। ফেব্রুয়ারির শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আরও ১ হাজার ১২৯ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে মোট ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বলে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪০৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে, যারা মূলত ১৯৯০ সাল এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিবন্ধিতদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৫০২ জন ১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশে এসেছেন এবং প্রায় ১০ লাখ ৯০৬ জন রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের বড় ঢলের সময় ও তার পরবর্তী সময়ে এখানে আশ্রয় নেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তার সন্ধানে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি উল্লেখযোগ্য ঢেউ দেখা যায়, যাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, বর্তমানে শরণার্থীদের প্রায় ৭৮ শতাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক অভিভাবক পরিবার, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ঝুঁকিতে থাকা বয়স্করা অন্তর্ভুক্ত। এসব জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ আইনি ও শারীরিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট