চিত্রা নদী খননের মাটি সরানো হয়নি, আতঙ্কে যশোরের নদীপাড়ের মানুষ
- আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৫:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৫:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় চিত্রা নদী খননের মাটি দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ না করায় নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খননকৃত মাটি নদীতীরবর্তী লোকালয়ে ফেলে রাখায় অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার কার্যত বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে নড়াইলের গড়ের বাজার থেকে বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার এলাকায় চিত্রা নদী পুনঃখনন শুরু করা হয়। তবে খননের পর বিপুল পরিমাণ মাটি নদীর পাড়ের গ্রামগুলোতে ফেলে রাখা হয়, যা পরে সরানো হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মগাতী ও ঘোপ দুর্গাপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাটির বড় বড় স্তূপ জমে আছে। এতে অনেক পরিবারের বসতভিটা, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও টিউবওয়েল মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চারপাশে উঁচু মাটির ঢিবি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাসন্তী বিশ্বাস জানান, তাদের বাথরুম, গোয়ালঘর ও টিউবওয়েল মাটির নিচে চাপা পড়েছে। ফলে সেখানে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। একই গ্রামের সখি রানী অভিযোগ করেন, নদীর অপর পাশে প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করলেও সেখানে মাটি ফেলা হয়নি। অথচ সাধারণ মানুষের মালিকানাধীন জমিতে মাটি ফেলে তাদের বিপদে ফেলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুনু বেগম বলেন, নদী খননের কাজ তারা সমর্থন করেন। কিন্তু খননের মাটি বাড়ির ওপর ফেলে দেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানাজী বলেন, খননকৃত মাটি বিক্রির জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্পট নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মার্চ সেই নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও দরদাম নিয়ে হট্টগোলের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ঈদের পর পুনরায় নিলামের আয়োজন করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির গুণগত মান কম হলেও উপজেলা প্রশাসন নিলামে তুলনামূলক বেশি দর নির্ধারণ করায় ক্রেতারা আগ্রহ দেখাননি। ফলে মাটি অপসারণে বিলম্ব হচ্ছে এবং এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই মাটি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসন গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।