ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান সম্ভবত তাদের নিজেদের কাছে থাকা 'টমাহক' (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী নিহতের এই ঘটনাটি ইরানের নিজস্ব অস্ত্রের ভুল প্রয়োগ বা অভ্যন্তরীণ কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ প্রযুক্তিগতভাবে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের 'রেথিয়ন টেকনোলজিস' (Raytheon Technologies) দ্বারা নির্মিত এবং এটি মূলত মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহার করে। ইরান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মার্কিন সমরাস্ত্রের মালিক ছিল না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্বতন্ত্র তদন্তকারী সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনাব শহরের ওই বালিকা বিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌ-ঘাঁটি অবস্থিত। স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত ওই নৌ-ঘাঁটি লক্ষ্য করে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বা পাশ্ববর্তী স্থাপনা হিসেবে বিদ্যালয়ে আঘাত হানে। এমনকি পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একটি প্রাথমিক তদন্তেও স্বীকার করা হয়েছে যে, মার্কিন সমরাস্ত্রের মাধ্যমেই এই দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভিডিও প্রমাণের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, টমাহক একটি 'জেনেরিক' বা সাধারণ অস্ত্র যা অন্য অনেক দেশও ব্যবহার করে।
ডেস্ক রিপোর্ট