ভারতের বহুল আলোচিত কয়লা খনি দুর্নীতি বা কোলগেট মামলায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআইয়ের দাখিল করা ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে আদালত দীর্ঘদিনের এ ফৌজদারি মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তি হলো।
বুধবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে বিশেষ আদালতের সমন জারির সিদ্ধান্তে ত্রুটি ছিল এবং ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি তখন ছিল না।
মামলার সূত্রপাত ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে ওড়িশার তালাবিরা ২ কয়লা খনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিন্ডালকোকে বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। সে সময় কয়লা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের অধীনে ছিল। ওই বরাদ্দকে ঘিরেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
২০১৫ সালের মার্চে বিশেষ সিবিআই আদালত ড. মনমোহন সিং, শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লা, সাবেক কয়লা সচিব পি সি পরেখসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করে। পরে মনমোহন সিং ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে একই বছরের এপ্রিলে সমনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ট্রায়াল কোর্টের কাছে সিবিআইয়ের দাখিল করা ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছিল না। ফলে আদালত ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেন।
ড. মনমোহন সিং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর তার বিরুদ্ধে থাকা একমাত্র দুর্নীতির মামলারও আইনি অবসান হলো।
রায়ের পর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ড. মনমোহন সিংকে ঘিরে অতীতের অভিযোগের জন্য দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত ড. মনমোহন সিং ১৯৯১ সালে দেশটির অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের প্রধান হিসেবে ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর তিনি দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী হন।
ডেস্ক রিপোর্ট