চীন থেকে ৪০০ MANPADS কিনছে ইরান, শক্তিশালী হচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা
রয়টার্সের সূত্রের দাবি, ৩০০-৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে ইরান; তবে বেইজিং অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
- আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
চীনের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (MANPADS) কেনার চুক্তি করেছে ইরান বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে চুক্তি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। যদিও এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনে তৈরি MANPADS-এর প্রথম চালান ইরানের হাতে পৌঁছাতে পারে। সূত্রগুলোর দাবি, চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার এবং এতে ৩০০ থেকে ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কিউডব্লিউ-১২ (QW-12) এবং এফএন-১৬ (FN-16) মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনার পর স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন এই অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলোর ধারণা।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনা সরবরাহকারী ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের খবরের কোনো ভিত্তি নেই। বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সব সময় সংঘাত নিরসন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানির কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে সূত্রগুলোর দাবি, প্রথম চালান পশ্চিম চীনের উরুমকি শহর থেকে আকাশপথে পাঠানো হতে পারে এবং পরে পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছাবে। তবে পাকিস্তান হয়ে অস্ত্র পরিবহনের বিষয়ে চলমান জল্পনা নাকচ করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অসত্য।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য MANPADS ব্যবস্থা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোন প্রতিহত করতে কার্যকর। সহজে বহন ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারে এসব অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই কিউডব্লিউ সিরিজের MANPADS সংগ্রহে আগ্রহী ছিল। একই সঙ্গে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যাতে পরিবহনের সময় ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও অস্ত্র সরবরাহের সময়সূচি, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।