ইরান ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত দশম দিনে গড়িয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, যার লক্ষ্য হিসেবে ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চল—বিশেষ করে তেল আবিব—এর নাম উঠে আসছে। একই সময়ে ইসরাইলে হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদক নুর ওদেহ দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানান, চলমান সংঘাতের সময় ইসরাইলের সামরিক সেন্সর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বা হিজবুল্লাহর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট কোথায় আঘাত হেনেছে এবং কতগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশে কার্যত একটি ‘সংবাদ ব্ল্যাকআউট’ কার্যকর রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরাসরি সম্প্রচারের সময় সাংবাদিকরা যদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার বেশি তথ্য প্রকাশ করেন বলে মনে করা হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সোমবার (৯ মার্চ) বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদকের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটিতে দুজন নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অস্ত্র আঘাত হানার সময় ছোট ছোট বিস্ফোরক অংশে বিভক্ত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তুলনামূলক বড় পরিসরে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলোতে অবিস্ফোরিত গোলা বা বিস্ফোরক অবশিষ্ট রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা দলগুলোকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসতে বিলম্ব হচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মনে করছেন।
চলমান এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ডেস্ক রিপোর্ট