ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের সুপার এল নিনো কি, কিভাবে এটা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে? গাজায় ট্রাম্পের শান্তি দাবি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ম্যাক্রো তেল ও গ্যাস সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে রাজি আছে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দম্পতি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরাইল:শায়খ ইকরিমা সাবরি অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন: আইফোন ছিনতাই ও পাঁচ হাজার টাকা অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার নয়াদিল্লির একাধিক স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি: তল্লাশি অভিযান শুরু সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি ট্রাম্পের খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের শিশু নাঈম নিখোঁজ: অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পরিবারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি

ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৭৩ বার পঠিত
ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন ছবি সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ ভুল করতেই পারে, তবে ভুল বুঝতে পেরে তা স্বীকার করা এবং সংশোধনের পথে ফেরা নৈতিক শক্তি ও ঈমানি চেতনার প্রকাশ। আলেমরা বলেন, নিজের ত্রুটি ঢাকার বদলে বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির পরিচয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।
 

ইসলামি শিক্ষায় মানুষকে স্বভাবগতভাবে ভুলপ্রবণ বলা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) উল্লেখ করেছেন, সব মানুষই ভুল করে; তবে উত্তম তারা, যারা ভুলের পর অনুতপ্ত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)। আরও একটি হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ যদি গুনাহ না করত, তবে আল্লাহ এমন জাতি সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করে তওবা করত এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতেন (মেশকাত: ২৩২৮)। এ বাণীগুলোতে তওবা ও ফিরে আসার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 

ইসলামের ইতিহাসে ভুল স্বীকারের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবিদের জীবনে মতভেদ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে তারা দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক করেছেন। একটি ঘটনায় হজরত আবু বকর (রা.) অনিচ্ছাকৃতভাবে হজরত ওমর (রা.)-কে কষ্ট দিলে তা বুঝতে পেরে ক্ষমা চান; এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে কল্যাণে অগ্রগামী বলে উল্লেখ করেন (সহিহ বুখারি: ৪৬৪০)। এতে বোঝা যায়, ভুল স্বীকারকে ইসলামে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ হিসেবে দেখা হয়।
 

পবিত্র কোরআনেও অপরাধ স্বীকার ও সংশোধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সুরা তাওবা (১০২)-এ উল্লেখ আছে, যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে এবং ভালো-মন্দ কাজের মিশ্র জীবন যাপন করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু বলা হয়েছে, যা বান্দাকে আশা ও সংশোধনের পথে আহ্বান জানায়।
 

ইসলাম শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, ক্ষমা করাকেও বড় গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। সুরা আলে ইমরান (১৩৪)-এ বলা হয়েছে, যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। অর্থাৎ নৈতিক সমাজ গঠনে ভুল স্বীকার ও পারস্পরিক ক্ষমাশীলতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
 

ইসলামি ঐতিহ্যে নবীদের জীবনেও ভুল উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার উদাহরণ পাওয়া যায়, যা বিনয় ও আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় আলোচকরা মনে করেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব স্তরে ভুল স্বীকার ও সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়ে এবং নৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী হয়।

 
 
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৬

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।