ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) , ২৯ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
ফেনীতে ৮ মাসে চুরি শতাধিক ট্রান্সফরমার, বাড়ছে সংকট কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দফায় দফায় আফটারশক ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান কে এই মহসেন রেজাই? মানবিকে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল, বিজ্ঞানে পাসের হার ৮০ শতাংশের ব ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ সৌদি আরব আগুন ১৭ জনের মৃত্যু: ৭ জনই নওগাঁর আত্রাইয়ের ৪২ ঋণখেলাপীর অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক ৮ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে কাল থেকে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন গ্রামের মানুষকে শহরমুখী হতে হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে সমস্যার সমাধান সম্ভব: হাইকমিশনার নাজিরগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই চলছে অবৈধ খেয়া নৌকা টোল আদায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত দারুল উলুম দেওবন্দে ‘গঙ্গা জল’ ঢালার ঘোষণা হিন্দু রক্ষা দলের হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান চ্যাটজিপিটির ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য মেসেজ লিমিট তুলে নিল ওপেনএআই বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে দম্পতি র‌্যাব নাম পরিবর্তন হয়ে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত

ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০৮:৫১:৫২ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩৬ বার পঠিত
ইসলামে ভুল স্বীকার কেন নৈতিক শক্তির নিদর্শন ছবি সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ ভুল করতেই পারে, তবে ভুল বুঝতে পেরে তা স্বীকার করা এবং সংশোধনের পথে ফেরা নৈতিক শক্তি ও ঈমানি চেতনার প্রকাশ। আলেমরা বলেন, নিজের ত্রুটি ঢাকার বদলে বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির পরিচয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।
 

ইসলামি শিক্ষায় মানুষকে স্বভাবগতভাবে ভুলপ্রবণ বলা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) উল্লেখ করেছেন, সব মানুষই ভুল করে; তবে উত্তম তারা, যারা ভুলের পর অনুতপ্ত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে (সুনানে তিরমিজি: ২৪৯৯)। আরও একটি হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ যদি গুনাহ না করত, তবে আল্লাহ এমন জাতি সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করে তওবা করত এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতেন (মেশকাত: ২৩২৮)। এ বাণীগুলোতে তওবা ও ফিরে আসার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 

ইসলামের ইতিহাসে ভুল স্বীকারের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবিদের জীবনে মতভেদ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে তারা দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক করেছেন। একটি ঘটনায় হজরত আবু বকর (রা.) অনিচ্ছাকৃতভাবে হজরত ওমর (রা.)-কে কষ্ট দিলে তা বুঝতে পেরে ক্ষমা চান; এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে কল্যাণে অগ্রগামী বলে উল্লেখ করেন (সহিহ বুখারি: ৪৬৪০)। এতে বোঝা যায়, ভুল স্বীকারকে ইসলামে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ হিসেবে দেখা হয়।
 

পবিত্র কোরআনেও অপরাধ স্বীকার ও সংশোধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সুরা তাওবা (১০২)-এ উল্লেখ আছে, যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে এবং ভালো-মন্দ কাজের মিশ্র জীবন যাপন করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু বলা হয়েছে, যা বান্দাকে আশা ও সংশোধনের পথে আহ্বান জানায়।
 

ইসলাম শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, ক্ষমা করাকেও বড় গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। সুরা আলে ইমরান (১৩৪)-এ বলা হয়েছে, যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। অর্থাৎ নৈতিক সমাজ গঠনে ভুল স্বীকার ও পারস্পরিক ক্ষমাশীলতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
 

ইসলামি ঐতিহ্যে নবীদের জীবনেও ভুল উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার উদাহরণ পাওয়া যায়, যা বিনয় ও আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় আলোচকরা মনে করেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব স্তরে ভুল স্বীকার ও সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়ে এবং নৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী হয়।

 
 
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৬

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।