জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইসলামাবাদ নিজ দেশের সমস্যাই সামাল দিতে পারছে না, সেখানে কাশ্মীর পরিচালনার প্রশ্নই ওঠে না।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেহবাজ শরিফ দাবি করেন, একদিন ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হবে। একই সঙ্গে তিনি কাশ্মীর পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে তুলনা করেন এবং কাশ্মীর সংকটের সমাধানে কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক পরাজয়ের পর ভারত তাদের ‘প্রক্সি বাহিনী’ ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী নীতি থেকে সরে না এলে দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার মুখ খোলেন ওমর আব্দুল্লাহ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, পাকিস্তানের হাতে যে অঞ্চল ইতোমধ্যে রয়েছে, তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতেই তারা হিমশিম খাচ্ছে; সেখানে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি বাস্তবতা বিবর্জিত।
এদিকে কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মুজাফফরাবাদ সফর করে কাশ্মীরি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, তিনি ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেন।
ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কড়া বক্তব্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবনে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, বাস্তব উন্নয়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক বক্তব্যের লড়াই অঞ্চলটির পর্যটন, শিক্ষা ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তাও বাড়ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট