মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্প্রতি উন্নীত হওয়া ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এ সময় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী আর রামানানও উপস্থিত ছিলেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী দুই দেশের জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে ‘মাদানি’ ড্রাম পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রদর্শিত হয়।
রোববার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ভারত ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার পর এটিই নরেন্দ্র মোদির প্রথম মালয়েশিয়া সফর। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, কৃষি, পর্যটন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, স্বাস্থ্য খাত, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নোট বিনিময়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET), শ্রম বাজার সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’–সংক্রান্ত উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
ভারত ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সুদৃঢ়। মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৯ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাস, যা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৯.৪৯ বিলিয়ন রিঙ্গি বা প্রায় ১৮.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য, পেট্রোলিয়াম ও রাসায়নিক দ্রব্য, অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করা হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত–মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট