এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে মোদির নাম ঘিরে বিতর্ক, কংগ্রেসের কড়া প্রতিক্রিয়া
- আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৫:২৯:৩৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৫:২৯:৩৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪২ বার পঠিত
জেফরি এপস্টেইন ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন গোপন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে আসায় দেশটির রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরকার প্রশ্ন তুললেও বিরোধী দল কংগ্রেস বিষয়টিকে ভারতের জন্য ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের অধীনে সম্প্রতি প্রকাশিত এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি, বিপুলসংখ্যক ভিডিও এবং ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় শুক্রবার এসব নথি প্রকাশ করা হয়। এর কিছু অংশে প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম উল্লেখ থাকায় ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নথি প্রকাশের পরদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এপস্টেইনের একটি কথিত ই-মেইলে মোদির ২০১৭ সালের ইসরাইল সফরের প্রসঙ্গ থাকলেও, ওই সফরটি ছিল রাষ্ট্রীয় ও প্রকাশ্য। তার ভাষায়, বাকি দাবিগুলো একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য ছাড়া কিছু নয় এবং এসব নথির কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই।
সরকারি অবস্থানের বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। দলটির নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, নথিতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদি এপস্টেইনের ‘পরামর্শ’ গ্রহণ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনের স্বার্থে কিছু কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও এ বিষয়ে বিস্তারিত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিরোধীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও জাতীয় মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই প্রকাশনায় শুধু মোদিই নন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক ও বিল গেটসের মতো একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হলেও, তার রেখে যাওয়া নথি ও যোগাযোগের তথ্য এখনও বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম এ ধরনের বিতর্কিত নথিতে উঠে আসা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশটির জন্য একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।