মাসব্যাপী আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ–২০২৬) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এবারের মেলায় রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকার এবং স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবা বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার, যা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার বিকেলে পূর্বাচলের বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, এবারের বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে।
মেলায় কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাতের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফার্নিচার, কসমেটিক্স, হস্তশিল্প, খেলনা, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন ও বিক্রি করে।
সরেজমিন জরিপের ভিত্তিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন পণ্য উদ্ভাবনের জন্য চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, এবারের মেলায় সম্ভাব্য রফতানি আদেশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। এই রফতানি আদেশগুলো এসেছে আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
মেলায় রেস্তোরাঁসহ স্থানীয়ভাবে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য ও সেবা কেনাবেচা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি বলে জানানো হয়।
মেলার পাশাপাশি রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রফতানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অনলাইনে স্টল বরাদ্দ ও টিকিট ক্রয়ের সুবিধা চালু করা হয়।
যাতায়াত সুবিধায় বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস ও কনসেশন রেটে রাইড শেয়ারিং সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস মোতায়েন করা হয়। মেলার শেষ দিনে বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট