এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী
ধর্মঘটের হুমকিতে সরবরাহ ব্যাহত হলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, ২০ অক্টোবর আবারও বৈঠক
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৩:৫০:১৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৩:৫০:১৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্য নিয়ে কারসাজি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এর সরবরাহ বিঘ্নিত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা সরকার মেনে নেবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।
তিনি জানান, এলপিজি সরবরাহে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপারেটরদের সঙ্গে এটি সরকারের তৃতীয় বৈঠক। আগামী ২০ অক্টোবর আবারও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কারসাজি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়।
তিনি জানান, এলপিজির ডিলার ও বিক্রেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় উঠে আসা কৌশলগুলো প্রকাশের সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কারসাজি বা জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এলপিজির সরবরাহ ব্যাহত হলে রান্নাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে এর ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যার সমাধানে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্যিক সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু নিজেদের দাবি আদায়ে সরবরাহ বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈঠকে এলপিজির মূল্য, সরবরাহ পরিস্থিতি, ব্যবসায়ীদের দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে বাজারে সংকট এড়ানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।