চুয়েটে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে ভবনে তালা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৩:৩৫:২১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৩:৪৯:৫০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে উপাচার্য ভবনের ফটকে পুনরায় তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সোমবার সকালে নিয়োগের প্রায় ২০ দিন পর উপাচার্য ভবনের ফটকে ঝোলানো তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এ সময় তাঁরা নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান এবং নিজেদের দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন বলে জানা গেছে। আন্দোলনের কারণে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য। সোমবার তিনি কার্যালয়ে প্রবেশের পর আন্দোলনকারীরা নতুন করে অবস্থান কর্মসূচি জোরদার করেন।
শিক্ষার্থীরা নিয়োগ বাতিলের দাবিতে অনড় থাকায় এবং উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ক্লাস-পরীক্ষা কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর পরিস্থিতির অগ্রগতি নির্ভর করছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।