বাউফলে মা ইলিশ শিকারে ১৫ জেলের কারাদণ্ড, আটক ২৩
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার, আট শিশুকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুক্তি
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৮:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৮:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ১৫ জেলেকে ১৯ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় আট শিশুসহ মোট ২৩ জনকে আটক করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। আটক অপ্রাপ্তবয়স্ক আট শিশুকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় জেলেদের কাছ থেকে অবৈধ কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার কয়েকটি নৌকা জব্দ করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিনব্যাপী পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন মোহনা ও পয়েন্টে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন বাউফল উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কাশেম সিকদারের ছেলে রিপন সিকদার (২৫), ধুলিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে জামাল হাওলাদার (২৭), বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইসমাইল খানের ছেলে ছালাম খান (৪০), ধুলিয়া গ্রামের জব্বার হাওলাদারের ছেলে জাকির (২০), বাকেরগঞ্জের আবুল সরদারের ছেলে গনি সরদার (২৯), ধুলিয়া গ্রামের হারুন খানের ছেলে আবুল কালাম (২২), হেলাল হাওলাদারের ছেলে পারভেজ (২৯) এবং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর ফকিরের ছেলে আরিফ ফকির (২২)।
এ ছাড়া একই ইউনিয়নের ইসমাইল প্যাদার ছেলে রমিজ প্যাদা (২৪), মতলেব খন্দকারের ছেলে ইসমাইল খন্দকার (২৫), আলমগীর হাওলাদারের ছেলে ফিরোজ হাওলাদার, ধুলিয়া গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে কবির (৪০), মমিনপুর গ্রামের জালাল সিকদারের ছেলে সোলাইমান (২২), জালাল ফকিরের ছেলে ইলিয়াস ফকির (২৬) এবং সাইদুল আহমেদের ছেলে জাহিদুল (২০) কারাদণ্ড পেয়েছেন।
বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তা সত্ত্বেও কিছু জেলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নদীতে নেমে মাছ শিকারের চেষ্টা করছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আট শিশুসহ মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। এ সময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত অবৈধ কারেন্ট জাল ও কয়েকটি নৌকাও জব্দ করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৫ জেলের কারাদণ্ড
আটকের পর রোববার রাতে বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ১৫ জেলেকে ১৯ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে, আটক আট অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে মুচলেকা গ্রহণের পর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। এ কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার বন্ধে নদীতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জেলেদেরও আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।