ড্রোন প্রতিরোধে মাছ ধরার জাল টানাচ্ছে পাকিস্তানের পুলিশ
কম খরচে ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ চৌকিতে জাল বসানো হচ্ছে
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ড্রোন হামলা ঠেকাতে অভিনব এক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ চৌকি ও ফাঁড়ির ছাদ এবং সীমানাপ্রাচীরের মাঝামাঝি কয়েক মিটার উঁচুতে মাছ ধরার জাল টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দাবি, জালে ড্রোন আটকে গেলে সেটি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হতে পারে। আবার বিস্ফোরণ ঘটলেও নিচে থাকা সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি কমতে পারে।
চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল হাঙ্গু জেলার সারকি পিয়ালা পুলিশ চৌকিতে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার পর সশস্ত্র সদস্যরা চৌকিটি ঘিরে গুলি চালায়। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে একটি সাঁজোয়া গাড়ির চালক নিহত এবং এক কনস্টেবল আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক–ই–তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
এরপর প্রায় দুই মাস আগে সারকি পিয়ালা চৌকিতে প্রথম মাছ ধরার জাল বসানো হয়। পুলিশ কর্মকর্তা ফাইয়াজ খানের ভাষ্য, জাল বসানোর পর থেকে ওই চৌকিতে আর কোনো ড্রোন হামলা হয়নি।
তাঁর মতে, কোনো ড্রোন চৌকির ওপর দিয়ে এলে জালে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ড্রোনটি থামানো বা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনকি জালে আটকা না পড়ে ওপরেই বিস্ফোরণ ঘটলেও বিস্ফোরণের টুকরা ও শেল সরাসরি নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
হাঙ্গু জেলা পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব জানান, একটি সাধারণ পুলিশ চৌকি এ ধরনের জাল দিয়ে ঢাকতে প্রায় চার লাখ পাকিস্তানি রুপি বা প্রায় ১ হাজার ৪৩৫ ডলার খরচ হয়। ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার হামলার ঝুঁকি কমাতে জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ স্টেশন ও চৌকিতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত ও ডেরা ইসমাইল খানসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলার চেকপোস্ট ও পুলিশ ফাঁড়িতে জাল বসানো হয়েছে। প্রদেশের কিছু সামরিক চৌকিতেও ড্রোন ঠেকাতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার ধরন বদলে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগে গুলিবর্ষণ ও মর্টার হামলার পাশাপাশি এখন ড্রোন ও কোয়াডকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলাও বেড়েছে। এসব হামলার বেশ কয়েকটির দায় টিটিপি স্বীকার করেছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং সীমান্তপারের হামলা ঠেকাতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এসব হামলাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করছে।
হাঙ্গুতে গত ২৯ জুলাইও একটি পুলিশ ফাঁড়িতে বোমাযুক্ত কোয়াডকপ্টার দিয়ে হামলার পর স্থলপথে আক্রমণ চালানো হয়। এতে ১১ পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৮ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ওই সংঘর্ষে ১৫ হামলাকারীও নিহত হন। টিটিপি হামলার দায় স্বীকার করে।
পুলিশ কর্মকর্তা জিশান খানের দাবি, সারকি পিয়ালা ও কাছের বালিয়ামেনা চৌকিতে জাল বসানোর পর থেকে কোনো ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার হামলা হয়নি। তাঁর ধারণা, এই ব্যবস্থা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।