ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, রাস্তায় লাখো মানুষ
স্কুলে অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে অভিভাবক-শ্রমিকরাও
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৯:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৯:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পুলিশের ‘দমনমূলক আচরণ’ কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
প্যারিসে প্লাস দে লা রিপুব্লিক থেকে শত শত কিশোর-কিশোরী মিছিল বের করেন। অন্যদিকে লিওনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্যারিস-মার্শেইয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং রেনে শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করা হয়। তবে আগের কয়েক দফার তুলনায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে বড় ধরনের সহিংসতা কম ছিল।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭১৫ জন পুলিশ সদস্যও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশটির ৮৯১টি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই দিনে দেশজুড়ে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার এবং ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়েছিল।
মার্শেইয়ে হাজারো মানুষ বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন। একপর্যায়ে মুখোশ পরা একদল বিক্ষোভকারী রাস্তার খুঁটি ও ময়লার বিন ব্যবহার করে পুলিশের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করতে ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনেক স্কুলের অবকাঠামো দুর্বল এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মার্শেইয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুলগুলোর অবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু কট্টর-বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডকে আগামী সাত মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শুরু থেকেই তিনি স্কুল অবরোধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চরম সহিংসতাপ্রবণ কিছু গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।
আন্দোলন অব্যাহত থাকায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।