সোমবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া নাজরান ও জাজান অঞ্চলের আকিফা ক্যাম্পসহ আরও কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান সারি।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েক ডজন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
হুতিরা আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে মক্কা ও মদিনার আকাশসীমাকে এই সতর্কবার্তার বাইরে রাখা হয়েছে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুতিরা হুমকি দিয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদা প্রদেশে হুতিদের ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে নৌ অভিযান চালানো হয়েছে।
জোটের দাবি, দক্ষিণ লোহিত সাগরের নৌপথে হুতিদের পরিকল্পিত হামলা ঠেকাতে এই অভিযান চালানো হয়। এতে অস্ত্রের গুদাম, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা রাখার স্থাপনা এবং সমুদ্রের মাইন ধ্বংস করা হয়েছে।
এর মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তিন দেশ।
এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনী জানিয়েছে, হুতিদের সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে চালানো অভিযানের সময় হুতিরা মোখা দখল করেছিল বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ‘অপারেশন ইয়েমেন ডন’ নামে আরও বড় অভিযান চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখল করা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, এই অভিযানে ১০০টি যুদ্ধবিমান সহায়তা দিচ্ছে। অভিযান শুরুর পর থেকে হুতিদের ৩২৪টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জোট।
সূত্র: শাফাক নিউজ