জিজানে আরামকোর তেল স্থাপনায় নতুন হামলার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ।
সৌদি আরবের জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই হামলার দায় প্রথমে কোনো পক্ষ স্বীকার না করলেও মঙ্গলবার হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ হামলার দায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসও জানিয়েছে, জিজানের আরামকো স্থাপনায় হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত জিজান সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী। শহরটিতে এর আগেও হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। জিজানে সৌদি আরামকোর একটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে, যার দৈনিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ৪ লাখ ব্যারেল।
গত মাসেও জিজানে আরামকোর স্থাপনায় হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় স্থাপনাটির উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওই হামলার কারণে কোম্পানির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
ইরান সমর্থিত হুতিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর রিয়াদের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। আগস্টেও জিজানের আরামকো শোধনাগারে হামলার দাবি করেছিল হুতিরা।
সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে এবং হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত দেখা যায়নি। তবে চলতি বছরের জুলাই থেকে আবারও উত্তেজনা ও হামলা বেড়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির দাবি, হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়েছে।