ইরানের বিরুদ্ধে প্রচলিত সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট।
গত শুক্রবার ২৮ আগস্ট মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাংবাদিক টাকার কার্লসনের পডকাস্ট কার্লসনের শোতে অংশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এই কর্মকর্তা এমন মন্তব্য করেন।
জো কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইলে সামনে দুটি বিকল্প থাকতে পারে। এর একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান এবং অন্যটি পারমাণবিক হামলা। তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
কেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্বত্য এলাকায় ভূগর্ভে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও বিশ্লেষণ, যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তিনি দেননি।
এর আগে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান তার দাবিগুলো মেনে না নিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
জো কেন্ট একসময় ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে চলতি বছরের মার্চে মার্কিন ইরান যুদ্ধ শুরু করার প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেন। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না এবং ইসরায়েলি চাপের কারণে ওয়াশিংটন সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে এসেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এ ধরনের অস্ত্র সংকটের দাবি অস্বীকার করেছেন এবং পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তার আওতায় চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের ৬০টি সংস্থা ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।