নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই হাজার ৫০২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নিখোঁজ থাকায় দুর্যোগটি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেপাল পুলিশের হিসাবে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের এখনো সন্ধান মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমিগ্রেশন মিনিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের তালিকায় ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কতজন নেপালের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অংশেও ২৬১ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালি নাগরিক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী ৩এ ও ৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শতাধিক দেশি ও বিদেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ও স্থলপথে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদামাটি এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে নেপালি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে মৃত, নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত হওয়া, উদ্ধার হওয়ার পরও তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়া এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।