স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভোতেকোশী নদীর পানি উপচে তিমুরেসহ রসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বহু মানুষ নিখোঁজ হন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুর কান্নার ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান। পরে শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খননকাজ শুরু করেন তাঁরা।
দীর্ঘ সময় ধরে খননের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীরা জানান, শিশুটি প্রায় তিন দিন ধরে মাটি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা ছিল।
উদ্ধারের পর তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডু নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকারী দলের প্রশংসা করছেন অনেকে। অনেকেই শিশুটির পরিবারের সদস্যদের দ্রুত খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষও শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের সন্ধান করছে। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে রসুয়াসহ নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক, সেতু ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় দুর্গত এলাকায় আশার সঞ্চার হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপ ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি