ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের,হুতিদের অস্বীকার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ চালুর পরিকল্পনা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়: 'অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ' চালুর ঘোষণা

ভারতে জবরদখল: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ কোটি রুপির জমি দখল

ঐতিহাসিক দলিল ও মালিকানা স্বত্ব উপেক্ষা করে এএমইউর ৩.৮ একর জমি দখলের অভিযোগ; উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুনের তীব্র নিন্দা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১১:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৯৩ বার পঠিত
ভারতে জবরদখল: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ কোটি রুপির জমি দখল ছবি সংগৃহীত
উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্য নাথের ইউপি সরকারের জোরপূর্বক দখলের শিকার হয়েছে ভারতের বিখ্যাত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ কোটি রুপি সমমূল্যের জমি।
 
সোমবার (২৪ আগস্ট) কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) এর ৩.৮ একরের বেশি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমিটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি রুপি।
 
ভারতজুড়ে মুসলিমদের সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ভয়াবহ প্রবণতা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে গত ২০ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে।
 
নগর কর্তৃপক্ষ এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিটি সরকারি মালিকানাধীন দাবি করে তার চারপাশে বেড়া দিয়ে দখলে নেয় এবং একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেয়, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের মালিকানার পক্ষে জমিটির ঐতিহাসিক নথিপত্র রয়েছে।
 
সরকার দখলকৃত জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইডিং ফিল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ‘ভামোলা মাফি-নাগলা পাটওয়ারি’ এলাকায় অবস্থিত।
 
বেড়া দিয়ে দখলের পূর্বে নগর কর্তৃপক্ষ জমিটির রাজস্ব জরিপ করে এবং দাবী করে, জমিটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে সরকারি রাজস্ব রেকর্ডে নথিভুক্ত রয়েছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন এ পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো আইনি নথি রয়েছে, যা জমিটির উপর আমাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। তিনি জানান, এএমইউ আদালতে এ পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় এসময় ১৯২৫ ও ১৯৪০ সালের জমি অধিগ্রহণের নথি উপস্থাপন করে। এছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তৈরি একটি যৌথ পরিমাপ প্রতিবেদনেও জমিটিকে রাইডিং ফিল্ডের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এএমইউ আরো অভিযোগ করে যে, ১৯৯২ সালে তাদের রাজস্ব রেকর্ড গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাভেদ খান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কাছে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে এএমইউ শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, তারা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে।
 
এ ঘটনার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত ভারতে মুসলিম মালিকানাধীন সম্পত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
 
এদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নথি ও রাজস্ব রেকর্ড পর্যালোচনার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।
 
এই বিরোধ ভারতে মুসলিম সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, মুসলিমদের মালিকানা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করতে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থাকে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।