এসব ট্যাংকার আটক, জরিমানা এবং সেগুলোর পণ্য জব্দ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। একইসঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত এসব ট্যাঙ্কারের সঙ্গে সাগরে পণ্য স্থানান্তরে জড়িত অন্যান্য নৌযানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
নতুন কর্তৃপক্ষের বার্তা:
হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য ইরানের গঠিত নতুন সংস্থা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে একথা জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর "ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা" আরোপের ঘোষণা এবং এর জবাবে তেহরানের "ধ্বংসাত্মক" পাল্টা বার্তার পরই এই সতর্কতা জারি করা হল।
তালিকায় যেসব কোম্পানির জাহাজ:
ইরানের প্রকাশিত কালো তালিকায় বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেল পরিবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি), তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং পরিশোধিত জ্বালানিবাহী জাহাজ রয়েছে।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘এডনক লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং’, তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ন্যাভিগ৮ ট্যাঙ্কারস’ এবং সৌদি আরবের জাতীয় নৌ পরিবহন কোম্পানি ‘বাহরি’র মালিকানাধীন একাধিক জাহাজ রয়েছে।
এছাড়াও নরওয়ের ‘ক্লাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট’, ‘স্টোল্ট ট্যাঙ্কারস’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সিনোকোর’-এর জাহাজকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে শিপিং কোম্পানিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
পণ্য মালিকদের প্রতি নির্দেশ ও বাদ পড়ার নিয়ম:
বার্তায় জানানো হয়, নিয়ম ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত জাহাজগুলোর সঙ্গে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে (শিপ-টু-শিপ) পণ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে কোনও জাহাজকেই এই কালো তালিকায় যোগ করা হতে পারে।
পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে পণ্যের মূল মালিকদের (কার্গো ওনার) অমান্যকারী জাহাজের হালনাগাদ তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আর কোনও জাহাজ যদি এই তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিতে হবে।
পোস্টে ইরানের 'নিয়মাবলী'র সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও, অতীতে তেহরান জানিয়েছিল যে প্রণালি অতিক্রম করতে জাহাজ মালিকদের পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে।
অন্যদিকে, ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রও নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
বৈশ্বিক সরবরাহ ও মার্কিন দাবি:
সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে দৈনিক ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হত। বর্তমানে প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থানরত বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলোতে ছোট জাহাজের সাহায্যে গোপনে তেল পৌঁছে দিয়ে রফতানি বজায় রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শুক্রবার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক্স-এ লেখেন, "মার্কিন নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে এবং গত ৭ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল প্রণালি অতিক্রম করেছে।"