বার্ধক্যজনিত কারণ, বাতের সমস্যা বা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে টাইপ করার অবহেলায় অনেকেই হাত মুঠো করার শক্তি বা ‘গ্রিপ স্ট্রেন্থ’ হারিয়ে ফেলেন। এতে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজ, যেমন- পানির বোতলের ছিপি খোলা, চাবি ঘোরানো বা ভারী জিনিসপত্র তোলাও এক যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা তৈরি হয়।
পুষ্টি ও ব্যায়াম বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ এক ধরনের থেরাপি কাদার সাহায্যে ঘরে বসেই আঙুলের চিমটি ও মুঠো করার জোর প্রাকৃতিকভাবে বাড়ানো সম্ভব।
‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাতের অভ্যন্তরীণ জটিল হাড়, লিগামেন্ট ও টেন্ডনের সুরক্ষায় ‘থেরাপি পুটি’ বা নমনীয় প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের কসরত বেশ কার্যকর।
থেরাপি পুটি বা নমনীয় কাদার বিজ্ঞান:
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের ইন্টারনিস্ট এবং হার্ভার্ড মেন’স হেলথ ওয়াচের সম্পাদক ম্যাথিউ সোলান বলেন, “মেডিকেল সাপ্লাই দোকানে বা অনলাইনে পাওয়া সহজলভ্য ‘থেরাপিউটিক পুটি’ হল এমন এক ধরনের স্থিতিস্থাপক প্লাস্টিক উপাদান যা পেশির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।”
ব্যায়াম শুরুর প্রথম দিকে হাতের পেশিতে সামান্য একটু ওলটপালট বা অস্বস্তি অনুভব হওয়া স্বাভাবিক, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রাকৃতিকভাবেই ঠিক হয়ে যায়।
সর্বোচ্চ সুফলের জন্য প্রতি একদিন পর পর প্রতিটি ব্যায়াম ১০ বার করে করা উপকারী।
হাতের জোর ও চিমটির শক্তি বাড়ানোর ৩টি কসরত:
পুটি গ্রিপ বা মুঠো করার ব্যায়াম:
পদ্ধতি: প্রথমে নমনীয় থেরাপি পুটি বা কাদাকে হাতের তালু দিয়ে গড়িয়ে একটি ছোট বলের আকার দিতে হবে। এরপর বলটি হাতের তালুর মাঝখানে শক্ত করে ধরে, পুরো আঙুল দিয়ে চারপাশ থেকে যতটা সম্ভব জোরে চেপে বা ‘স্কুইজ’ করে একটি শক্ত মুষ্টি তৈরি করতে হবে। কয়েক সেকেন্ড পর ছেড়ে দিতে হবে।
এটি হাতের সামগ্রিক মুঠো করার শক্তি বা গ্রিপ স্ট্রেন্থ বাড়াতে সাহায্য করে।
পুটি কি-পিঞ্চ বা চাবির চিমটি:
পদ্ধতি: থেরাপি পুটিকে রোল করে একটি খাটো ও মোটা সিলিন্ডার বা নলের আকার দিতে হবে। এবার পুটিটি বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনী আঙুলের পাশের অংশের মাঝখানে এমনভাবে চেপে ধরতে হবে, যেন দরজার লক বা তালায় চাবি ঘোরানো হচ্ছে।
এই অবস্থানে রেখে আঙুল দিয়ে পুটির ওপর একটি হালকা চাপ সৃষ্টি করতে হবে যতক্ষণ না অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ অনুভূত হয় এবং এরপর আলতো করে ছেড়ে দিতে হবে।
এটি চাবি ঘোরানো বা শক্ত জিনিস ধরার শক্তি বাড়ায়।
থ্রি-পয়েন্ট পিঞ্চ বা তিন আঙুলের চিমটি:
পদ্ধতি: পূর্বের নিয়মে পুটিকে পুনরায় একটি ছোট মোটা সিলিন্ডারের মতো বানিয়ে নিতে হবে। এবার পুটিটি একসঙ্গে তিনটি আঙুল, অর্থাৎ বুড়ো আঙুল বা বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী এবং মধ্যমা আঙুলের ডগা বা প্যাডের মাঝখানে চেপে ধরতে হবে।
এই অবস্থায় তিন আঙুল দিয়ে পুটিটিকে কেন্দ্রের দিকে যতটা সম্ভব জোরে চেপে ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিতে হবে। এটি কলম ধরা, সুঁই সুতোর কাজ কিংবা ছোট সূক্ষ্ম জিনিস শক্ত করে ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।
সতর্কতা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ:
ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের ইন্টারনিস্ট এবং হার্ভার্ড মেন’স হেলথ ওয়াচের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ডা. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন সতর্ক করে বলেন, “ব্যায়াম শুরুর সময় সবসময় নরম বা সফট পুটি দিয়ে শুরু করা উচিত। পেশি অভ্যস্ত হয়ে গেলে এবং কোনো কষ্ট ছাড়াই করতে পারলে, তবেই পরবর্তী ঘন বা কড়া মেদযুক্ত পুটিতে রূপান্তর করা নিরাপদ।”
তবে মনে রাখা জরুরি, যদি হাতের জয়েন্ট বা জোড়ে তীব্র ইউরিক অ্যাসিডের বাতের ব্যথা, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া বা হাড়ের গুরুতর ‘ফ্র্যাকচারে’র ইতিহাস থাকে, তবে চিকিৎসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া জোর করে এই কসরতগুলো করা যাবে না।