গাজীপুরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে নির্যাতন
চন্দনা চৌরাস্তা থেকে অপহৃত ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কর্মকর্তাকে উত্তরার ৩০০ ফুট এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১০:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ১০:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৮৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের পর পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই কর্মকর্তাকে উত্তরার ৩০০ ফুট এলাকার নীলা মার্কেটের কাছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ব্যাংকার ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন (৩০) গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকার ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আলী।
ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অফিসের কাজ শেষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিজ বাড়ির উদ্দেশে চন্দনা চৌরাস্তা থেকে রওনা হন ইমরান। এ সময় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে জোর করে তুলে নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাইক্রোবাসের ভেতরে ইমরানের হাত-পা ও চোখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা।
পরে ইমরানের মুঠোফোন ব্যবহার করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করা হয়। কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। একই সঙ্গে ইমরানের নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের পর ইমরানকে প্রথমে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে উত্তরার ৩০০ ফুট এলাকার নীলা মার্কেটের কাছে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় ইমরান বাসন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর ইমরান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরে একই ধরনের কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকার, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এক ব্যবস্থাপককে একই কায়দায় সড়ক থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া কাপাসিয়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক কর্মীকেও একই ধরনের কায়দায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের কথা জানা গেছে।
সাম্প্রতিক এসব অভিযোগের পর গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইমরানের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপহরণে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।