মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ইরানি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এরপরও নিরাপত্তাজনিত কারণে চরম গোপনীয়তার মধ্যে বিকল্প একটি সামরিক উড়োজাহাজে করে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল সরকার ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সিআইএর কাছে তথ্য পাঠায়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা ওই তথ্যকে যথেষ্ট শক্তিশালী বা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি। সংস্থাটি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও এ সংশয়ের কথা জানিয়েছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেদনটি মূলত ইসরায়েলভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য না হওয়ায় মার্কিন গোয়েন্দা মহলে এর নির্ভরযোগ্যতা খুবই কম বলে বিবেচিত হয়েছিল।
২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পসহ জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের অবস্থান গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউস। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রথমে নিয়মিত উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে গোপনে সেখান থেকে নেমে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে গিয়ে এয়ারফোর্স সি ৩২এ উড়োজাহাজে ওঠেন। এরপর ট্রাম্প ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়।
কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ৭৪৭ ৮ উড়োজাহাজটি সম্ভাব্য বৈরী পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে সক্ষম কি না, তা নিয়েও সংশয় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বিকল্প সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ট্রাম্প পরে জানান, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস যেভাবে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল, তিনি সেটিই অনুসরণ করেছেন। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সংশয় এবং ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।