লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ফেনীতে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের, পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনেও ক্ষতি হচ্ছে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম প্রশাসন আবদুল আউয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থেকে ৫৮টি, ছাগলনাইয়া থেকে ৩৬টি, পরশুরাম থেকে তিনটি, সোনাগাজী থেকে দুটি এবং দাগনভূঞা থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ফুলগাজীতে এখন পর্যন্ত ট্রান্সফরমার চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চক্র এসব ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। পরে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান কয়েল ও তামার তার খুলে নেওয়া হয়। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর কুহুমা গ্রামের একটি মসজিদের ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরি হলে মসজিদসহ ৬৩টি পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল মিথুন জানান, নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসে ৮১ হাজার টাকা জমা দেন। পরে সোমবার ১০ আগস্ট বিকেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
শিল্প মিটারের গ্রাহক আলাউদ্দিন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনে যে সময় লাগে, তাতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন জানান, প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে এর অর্ধেক মূল্য এবং দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্য গ্রাহককে বহন করতে হয়। চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সতর্ক করতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া তারও উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট