যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পাঁচ মাসের মাথায় চরম যুক্তরাষ্ট্রবিদ্বেষী এই যুদ্ধবাজ নেতাকেই নিজেদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইরান।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন এই কাউন্সিলে তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদরের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বিদায়ী জোলকাদরকে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। সামরিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই খামেনি রবিবার এক ডিক্রির মাধ্যমে রেজাইকে কাউন্সিলে নিজের প্রতিনিধি বানান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গত মার্চে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নিয়েই রেজাইকে সামরিক উপদেষ্টা করেন। যুদ্ধবিরতির ঘোর বিরোধী এই নেতা ১৭ জুনের চুক্তিতেও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন।
রেজাইয়ের উত্থান অবশ্য একদিনে হয়নি। কিশোর বয়সেই শাহবিরোধী আন্দোলনে নেমে ১৯৭৩ সালে ‘সাভাক’-এর হাতে বন্দি হন তিনি। তিনি ১৯৭০-এর দশকে রাজতন্ত্রবিরোধী ‘মনসুরুন’ নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠনে সহায়তা করেন। সেই সময় রেজাইয়ের সঙ্গে জেল খাটা এই গোষ্ঠীর সদস্যরা পরবর্তীতে আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। অর্থনীতিতে ডক্টরেটধারী ও প্রেসিডেন্ট পদে নিয়মিত লড়া এই নেতা রাইসির অধীনে অর্থনৈতিক ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন।
বিপ্লবের পর আইআরজিসিতে যোগ দিয়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই কমান্ডার হন তিনি। ইরান-ইরাক যুদ্ধসহ টানা ১৬ বছর নেতৃত্ব দিয়ে বাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান সক্ষমতা বাড়ান। তবে ১৯৮৬ সালের রক্তক্ষয়ী ‘কারবালা-৪’ অভিযানকে ২০১৮ সালে এক টুইটে ‘শত্রুদের ধোঁকা দেওয়ার কৌশল’ বলায় প্রবীণ সেনা ও শোকাহত পরিবারগুলোর তীব্র তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট