মুক্তিপণের ফাঁদে প্রেমিকার মোবাইল, পুলিশের তদন্তে ফাঁস নাটক
মুক্তিপণের দাবির ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে আসে আত্মগোপনের পরিকল্পনা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১০:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১০:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তদন্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়। পরে রাজশাহী থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
পুলিশ জানায়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন গত ২৮ জুলাই বিকেলে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। তিনি মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, একটি ব্রিলিয়ান্ট আইপি নম্বর থেকে ফোন করে সাব্বিরকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে রাজশাহী শহরে অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে উদ্ধার করা হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি কোনো অপহরণকারীর কবলে ছিলেন না। বরং নিজেই একটি স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি পুরো ঘটনার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিকাকে নতুন একটি মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাব্বির এই পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপের আইপি নম্বর ব্যবহার করে নিজেই বাবাকে ফোন দেন, মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মারধরের অভিনয় করে ঘটনাটিকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজমিলুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছিল। শিক্ষার্থীর অনুশোচনা এবং পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং শেষে শুক্রবার ৩১ জুলাই তাকে তার বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।