ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
নবম পে স্কেলে বেতন পেতে তথ্য দিতে হবে আইবাসে চীনে বাড়ছে পেট্রোল ডিজেলের দাম সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ আওয়ামী লীগ আমলে ঋণের হিসাবেও গড়মিল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ইউরোপে গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা, শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জামায়াত সেক্রেটারির গভীর উদ্বেগ মিথ্যা ঘোষণায় চকবাজারের প্রতিষ্ঠানের সাড়ে পাঁচ হাজার কেজি প্রসাধনী আটক আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষায় নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ করল ফিনল্যান্ড সেফটি ভালভ জটিলতা ও অগ্নিকাণ্ডে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে পেট্রোবাংলা চাঁদপুরের ঐতিহাসিক বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের তীব্র সংকট ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে দুর্নীতি কমবে এবং ব্যবসার খরচ কমবে: অর্থমন্ত্রী উত্তরায় শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকার শপিং মলে ভয়াবহ আগুন হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

প্রাণনাশের শঙ্কা থাকলেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ১০:৩২:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ১০:৩২:৫০ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৪২ বার পঠিত
প্রাণনাশের শঙ্কা থাকলেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি হওয়া কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি জেনেও দেশের মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
 
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে কিংবা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকার পরও তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান বলে উল্লেখ করেন।
 
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেললে তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে যান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
 
গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তিনি এই রায়কে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি আইনের আড়ালে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে ভারতের একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন বলেও তিনি জানান।
 
বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনাধীন। তবে শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে তিনি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
 
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার, বিরোধীদের হত্যা এবং একতরফা নির্বাচন আয়োজনসহ নানা অভিযোগ তুলে আসছে। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, অনেক অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
 
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এটি শুধু ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং পরিকল্পিত সহিংসতা, অপপ্রচার এবং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি সংগঠিত অভিযান ছিল।
 
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষমতা অর্জন তার লক্ষ্য নয়, মানুষের সেবা করাই তার উদ্দেশ্য।
 
আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলেও শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। তিনি বলেন, যেসব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে, তাদের প্রতি তার সহানুভূতি রয়েছে। আন্দোলনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কখনও একজন ব্যক্তির একার সিদ্ধান্ত নয় এবং পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করা উচিত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।