ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে

খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিউপির যৌথ গবেষণায় সয়াবিন তেলে লাখ লাখ প্লাস্টিক কণা শনাক্ত, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগ।

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৪২ বার পঠিত
খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে এ দূষণের মাত্রা আরও বেশি।
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
 
গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে সেগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়।
 
গবেষণায় দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেলে বোতলজাত তেলের তুলনায় অন্তত ১ দশমিক ২৪ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। খোলা তেলের প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা খোলা তেলের নমুনায় দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। শিল্পকারখানার ঘনত্ব, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার নিকটবর্তী অবস্থান এবং একই পাত্র বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
 
পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে তেলের নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি), পলিইউরেথেন (পিইউ) এবং নাইলন। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি এই প্রথম কোনো গবেষণায় শনাক্ত হলো। পাওয়া কণাগুলোর ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল আঁশ বা ফাইবারজাতীয় এবং ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল স্বচ্ছ প্রকৃতির।
 
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, খাদ্যের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাদের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ৭৭ দশমিক ২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। একটি শিশু জীবদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলেও গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
 
গবেষকদের মতে, এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে রক্তে প্রবেশের ঝুঁকি বহন করে।
 
গবেষণা দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহের প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) বৃদ্ধি এবং খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
এ ছাড়া মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার, খোলা তেল বিক্রিতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।