ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার সুপারিশ তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
সম্প্রতি ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে উপজেলার কয়েকজন কৃষক উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) ইউএনও দবির উদ্দিন জানান, সালথার অর্থনীতিতে পেঁয়াজ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার বিপরীতে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। এ কারণে বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির ইজারা, পরিবহন এবং সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন এবং উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারছেন না। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত 'ধলতা' নেওয়ার প্রথা বন্ধ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে সংকট অনেকটাই কমবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথাসহ দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, কৃষকদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট