মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নে প্রায় ৪ কোটি টাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিঘাট–মনু–দলই সার্কুলার সড়ক সংস্কারের জন্য ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ জারি করা হয় এবং প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নির্ধারিত মানের বালু, পাথর ও খোয়া ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের বালু, রাবিশ, পুরোনো ইটের খোয়া, পাথরের গুঁড়া এবং কিছু স্থানে মাটিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে নির্মাণকাজে মান রক্ষা করা হচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।
হোসেনাবাদ–বিলাসছড়া সড়কটি আশিদ্রোন ও কালিঘাট ইউনিয়নের সাতটি চা-বাগান এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন কয়েক হাজার চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হোসেনাবাদ পানপুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) ওয়েল সুরং অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপরদিকে শাহিন মিয়াসহ আরও কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, শুরু থেকেই অনিয়ম চলছে। সিসি ঢালাইয়ের মান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এলাকাবাসী একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং পরে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, যেসব পুরোনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো সরকারি সেলভেজ মালামাল এবং টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী বৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন নির্মাণকাজে কোনো সমস্যা নেই এবং যেসব স্থানে ত্রুটি ছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে।
এলজিইডির কার্যসহকারী আবু বকর সিদ্দিক জানান, কাজ শিডিউল অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। তবে সেলভেজ ইট ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মানের পার্থক্য থাকতে পারে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, প্রকল্পে ব্যবহৃত সেলভেজ সামগ্রীর মূল্য সরকারি তহবিলে জমা হওয়ায় প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় কমে আসবে। তবে সব কাজ নিম্নমানের—এমন অভিযোগ সঠিক নয়, যদিও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে এবং কোথাও নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। এলজিইডির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে এবং অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট