• মুহাররমের ফজিলত:
১.কুরআন মাজিদে বর্ণিত নিষিদ্ধ চার মাসের মধ্যে একটি মাস হলো মুহাররম। [সূরা তাওবা ৩৬ [৯:৩৬)] ২.মাহে রমাদ্বনের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ মাস হলো মুহাররম মাস: عن أبي ذر رضي الله عنه قال: (سألت النبي صلى الله عليه وسلم: أي الليل خير وأي الأشهر أفضل؟ فقال: خير الليل جوفه وأفضل الأشهر شهر الله الذي تدعونه المحرم. رواه عن أبي ذر النسائي في الكبرى وعن أبي هريرة رواه الدارمي وأحمد والطبراني والبيهقي وعن جندب بن سفيان النسائي والبيقي والحديث صحيح. হজরত আবূ জর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রাতের কোন অংশটি উত্তম এবং কোন মাসটি অধিক মার্যাদাপূর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রাতের উত্তম অংশ হলো মধ্যভাগ এবং মাসসমূহের মধ্যে মর্যাদাবান হলো আল্লাহর মাস যাকে তোমরা মুহাররম বল (রমাদ্বন মাস ব্যতীত)। নাসায়ী শরীফ। ৩. সম্মানিত ও নিষিদ্ধ চার মাসের মধ্যে মুহাররম মাস সর্বোত্তম: ইবনে রজব রাহ. বলেন, অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের নিকট আশহুরে হুরুম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) এর মধ্যে মুহাররম মাসই সর্বোত্তম মাস।
• মুহাররম মাসে রোজা রাখার ফজিলত: রমাদ্বনের পর মুহাররমের রোজা সবচেয়ে উত্তম: عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفْضَلُ الصِّيَامِ، بَعْدَ رَمَضَانَ، شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلَاةُ اللَّيْلِ. رواه مسلم. অর্থ: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমাদ্বন মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মুহাররমের রোজা এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। (মুসলিম, হা. নং-১১৬৩) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: عَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرٌ تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ. অর্থ: হজরত জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমাদ্বন মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো ঐ মাসের রোজা যাকে তোমরা মুহাররম বলে ডাক। (সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ২৯০৪) আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: قَالَ: ্রإِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُمُ المُحَرَّمَ، فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ، فِيهِ يَوْمٌ تَابَ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ، وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَগ্ধ: أخرجه الترمذي وقال: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. অর্থ: হজরত আলী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমাদ্বনের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও তাহলে, মুহাররম মাসে রাখ; কারণ এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে যাতে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য একটি জতির তাওবা কবুল করবেন। (তিরমিযী ৭৪১)
• আশূরার রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত:
মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আশূরা বলা হয়। এদিনটি অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। আশূরার দিনে রোজা রাখার বিষয়টি অনেক পূর্ব থেকেই চলে আসছে। এ দিনে হজরত নূহ আ. এর নৌকা জূদী পর্বতে থেমেছিল; এর শুকরিয়া হিসেবে হজরত নূহ আ. এ দিনে রোজা রেখেছেন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা হজরত মূসা আ. ও তাঁর অনুসারীদেরকে ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত দিয়েছিলেন যার শুকরিয়া হিসেবে হজরত মূসা আ. এ দিনে রোজা রেখেছেন। (মুসনাদে আহমাদ ৮৭১৭) এমনকি আইয়ামে জাহিলিয়্যাতেও মক্কার লোকেরা আশূরার রোজা রাখতো। (বুখারী: ২০০২, মুসলিম: ১১২৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পূর্বে মক্কা মুকাররমা থাকা অবস্থায়ই আশূরার রোজা রেখেছেন এবং রোজা রাখার জন্য আদেশ দিতেন এবং উৎসাহিত করতেন। (মুসলিম: ১১২৮)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার রোজাকে অনেক গুরুত্ব দিতেন:
عنِ ابنِ عبَّاسٍ رضيَ الله عنهما قالَ: ما رأَيْتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى صِيامَ يَومٍ فَضَّلهُ على غَيرهِ إلا هذا اليومَ، يومَ عاشوراءَ، وهذا الشهرَ. يَعني شهرَ رمضانَ. অর্থ: হজরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোজা ও রমাদ্বনের রোজার উপর অন্য কোনো দিবসের রোজাকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি। (বুখারী ১৮৮০, মুসলিম ১১৩২)
আশূরার রোজা বিগত বছরের গুনাহের জন্য কাফফারা:
عن ابي قتادة رضي الله تعالى عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم عاشوراء فقال: يكفر السنة الماضية. অর্থ: হজরত আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম ১১৬২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার রোজা কখনো ছাড়তেন না: أربع لم يكن لم يدعهن النبي صلي الله عليه وسلم: صيام عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر وركعتين قبل الغداة. অর্থ: হজরত হাফসা রা. বর্ণনা করেন, চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশূরার রোজা, জিলহজ্জের প্রথম দশকের রোজা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোজা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ। (সুনানে নাসায়ীঃ ২৭২৪; মুসনাদে আহমাদঃ ২৬৪৫৯)
• মুহাররম ও আশূরায় করণীয়:
◉ গুনাহ মুক্ত থাকা। বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। ◉ নফল ইবাদ-বন্দেগীর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। ◉ মুহাররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার চেষ্টা করা। ◉ আশূরার রোজা রাখা। অর্থাৎ, মুহাররমের দশ তারিখে ◉ রোজা রাখা এবং তার আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে রোজা রাখা। ◉ সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। (ইফতার ও সাহারিতে)
• মুহাররম ও আশূরায় বর্জণীয় কাজসমূহ:
◉ এ দিনকে ইহুদীদের মতো ঈদের দিন হিসেবে পালন করা। ◉ এ মাসকে ভ্রান্ত শিয়াদের মতো শোক ও মাতমের মাস হিসেবে পালন করা। ◉ তাযিয়া মিছিল বের করা। ◉ শোক-মাতম, মার্সিয়া, শরীরে চাকু দ্বারা আঘাত করা, খালি পায়ে চলা, শরবত পান করানো। ◉ মনগড়া ভাবে বিশেষ পদ্ধতিতে বিশেষ নামাজ পড়া। ◉ মনগড়াভাবে নামাজ-রোজার বিভিন্ন ফজিলত বর্ণনা করা। ইত্যাদি সবধরণের অন্যায় ও মনগড়া কাজ থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন।
সংগৃহীত - হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে (মুফতি ওমর আহমাদ হাফি.)
ডেস্ক রিপোর্ট