হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ব্ল্যাকআউটের কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানিশোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে বার্তা তেহরানের
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ১১:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০১:১৬:৪৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালায়, তবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ‘ব্ল্যাকআউট’ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকাও সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে তিনি সাময়িকভাবে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার নির্দেশ দিতেন, তাহলে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। অঞ্চলের আরেক কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে সংবেদনশীলতার কারণে উভয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, পরিকল্পিত ওই হামলা বাস্তবায়িত হলে তা ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা’ হতে পারত। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনি বিশেষভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি অবকাঠামোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। এক কর্মকর্তা বলেন, ইরান অতীতেও এমন হুমকি দিয়েছে। তবে এবারের বার্তাটি ছিল অনেক বেশি গুরুতর, কারণ এতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রতিটি হামলার জবাবে ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। এর জবাবে তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
উপসাগরীয় কর্মকর্তারা জানান, ইরানের পাঠানো বার্তায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেসালিনেশন) কেন্দ্রেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মরুভূমিপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপদ পানীয় জলের বড় অংশই এসব ডেসালিনেশন কেন্দ্রের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে মানবিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার পর সৌদি আরব জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে যথাক্রমে যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বিক্ষিপ্ত হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘর্ষের তীব্রতা আবারও বেড়ে যায়। বিশেষ করে কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।