ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত ২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই মিলবে কর ছাড় হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

নফস কী? নফসের ধোঁকা থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:৩১:১৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:৩১:১৬ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ২১৮ বার পঠিত
নফস কী? নফসের ধোঁকা থেকে বাঁচবেন কীভাবে? এআই জেনারেটেড

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু সব সময় বাইরে নয়, অনেক সময় তা লুকিয়ে থাকে নিজের ভেতরেই। ইসলামী পরিভাষায় এই অভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তিকে বলা হয় নফস। মানুষের কামনা-বাসনা, ইচ্ছা, আবেগ ও প্রবৃত্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো নফস। এটি নিয়ন্ত্রণে থাকলে মানুষ আল্লাহর আনুগত্যের পথে অটল থাকতে পারে। কিন্তু নফস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তা মানুষকে ধীরে ধীরে গুনাহ, অহংকার ও আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে ঠেলে দেয়।

কুরআনে নফসের তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের ভেতরের এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইবাদত, আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর স্মরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।


নফসের তিনটি স্তর

কুরআনের আলোকে নফসকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়।

নফসে আম্মারাহ

এটি এমন নফস, যা মানুষকে মন্দ কাজের দিকে আহ্বান করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই নফস তো মন্দ কাজের প্রতি প্রবলভাবে প্ররোচিত করে; তবে আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন, সে ব্যতীত।" (সূরা ইউসুফ: ৫৩)

এই অবস্থায় মানুষ গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে, হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ে, অহংকারে আক্রান্ত হয় এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে থাকে।

নফসে লাওয়ামাহ

এটি আত্মভর্ত্সনাকারী নফস। মানুষ যখন ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়, নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন সে এই স্তরের নফসের পরিচয় বহন করে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "আমি শপথ করছি আত্মভর্ত্সনাকারী নফসের।" (সূরা আল-কিয়ামাহ: ২)

নফসে মুতমাইন্নাহ

এটি প্রশান্ত নফস। আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত এবং তাকওয়ার মাধ্যমে যে আত্মা শান্তি লাভ করে, তাকে নফসে মুতমাইন্নাহ বলা হয়। কিয়ামতের দিন এ ধরনের বান্দাদের উদ্দেশে আল্লাহ বলবেন, "হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট এবং সন্তোষভাজন হয়ে।" (সূরা আল-ফজর: ২৭-৩০)



কীভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয় নফস?

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, নফস সাধারণত একবারে বড় গুনাহে উৎসাহিত করে না। বরং ধাপে ধাপে মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়। যেমন—

  • ছোট গুনাহকে গুরুত্বহীন মনে করায়।
  • তাওবা পরে করলেও হবে—এমন ধারণা সৃষ্টি করে।
  • অহংকার, হিংসা ও লোভ বাড়িয়ে দেয়।
  • লোক দেখানো ইবাদতে উৎসাহিত করে।
  • হারাম কাজকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
  • নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে অলসতা সৃষ্টি করে।
  • দুনিয়ার মোহকে আখিরাতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করায়।

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, "তুমি কি তাকে দেখেছ, যে নিজের প্রবৃত্তিকেই নিজের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?" (সূরা আল-জাসিয়াহ: ২৩)



নফস থেকে বাঁচার উপায় কী?

ইসলামে নফসকে দমন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কয়েকটি আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, নিয়মিত ও মনোযোগের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫)

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কুরআনের শিক্ষা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, আল্লাহর জিকির, তাওবা ও ইস্তিগফার নিয়মিত করতে হবে। কারণ আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা আর-রা'দ: ২৮)

এ ছাড়া নফল রোজা রাখা, সৎ মানুষের সান্নিধ্যে থাকা, মৃত্যু ও আখিরাতের কথা বেশি বেশি স্মরণ করা এবং আল্লাহর কাছে নফসের পরিশুদ্ধির জন্য দোয়া করা একজন মুমিনকে নফসের কুমন্ত্রণা থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন, "হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পবিত্র করুন। আপনিই তার সর্বোত্তম পবিত্রকারী।" (সহিহ মুসলিম)

নফস মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে মানুষকে গুনাহ, অহংকার ও আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা। নিয়মিত ইবাদত, আত্মসমালোচনা, তাওবা, জিকির ও সৎকর্মের মাধ্যমে নফসকে নিয়ন্ত্রণে এনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৮

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।