ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের শিশু নাঈম নিখোঁজ: অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পরিবারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পক্ষে রাশিয়ার ও চীনের ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির এলএনজি আমদানির প্রথম চালান দেশে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ নিউইয়র্কে যাচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে নিতে সঞ্চালন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল উত্তর আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, উঠছে প্রশ্ন স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা আদালতে স্পষ্ট করলেন ভারতের আয়ুষ মালিক দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ ঢাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনুমোদন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের পর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ৬ কার্গো এলএনজি আমদানি পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ: আরও ১০০ প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পদ্মা জেনারেলে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ: ডাক্তারহীন এনআইসিইউ বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বেচাকেনার অভিযোগে কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার ১

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তিলাওয়াত ও কুরাইশ নেতা উতবা

মক্কার প্রবীণ নেতা উতবা ইবনে রবীআ রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাওহিদের দাওয়াত থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কুরআনের আয়াত শুনে নিজেই গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে ফিরে আসেন।
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৯:২৬:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৯:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩৭ বার পঠিত
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তিলাওয়াত ও কুরাইশ নেতা উতবা প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
সংগৃহীত: মাওলানা ফজলুদ্দীন মিকদাদ
মাসিক আল কাউসার ওয়েবসাইট থেকে

এটা সে সময়ের ঘটনা, যখন কাফেরদের শত বাধা-বিপত্তি ও জুলুম-নির্যাতনের পরেও মক্কায় ক্রমশ ইসলামধর্ম ছড়িয়ে পড়ছিল। ওমর রা., হামযা রা.-সহ আরো অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে কাফেররা চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছিল। সে সময় কুরাইশদের এক প্রবীণ নেতা ছিল উতবা ইবনে রবীআ। তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কারণে সকলেই তাকে মান্য করত।

একদিন উতবা সাথি-সঙ্গীদের নিয়ে কাবা চত্বরে বসে ছিল। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তখন কাছাকাছি এক জায়গায় বসে ছিলেন। উতবা তার সাথিদেরকে বলল, আমি কি গিয়ে মুহাম্মাদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সঙ্গে একটু কথা বলব? তাকে কিছু লোভনীয় প্রস্তাব দেব, হয়তো সে কোনো একটা প্রস্তাব গ্রহণ করবে। আমরা তাকে সেটা দেব। তাহলে সে এখন যা বলছে, তা থেকে নিবৃত্ত হবে। আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে আর কিছু বলবে না।

সবাই বলল, হাঁ, হাঁ, আবুল ওয়ালীদ (উতবার উপনাম), আপনি গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন।

তারা ভেবেছিল, উতবা নিশ্চয়ই নিজের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে নবীজীর ওহীর প্রতিউত্তর করতে পারবে। তাই তারা তাকে নবীজীর কাছে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধও করল।

উতবা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, ভাতিজা! আমাদের মধ্যে তোমার অনেক মান-মর্যাদা রয়েছে। তুমি উচ্চ বংশের। আমরা সকলেই তোমাকে খুব সম্মান করি। কিন্তু তুমি আমাদেরকে একটা সংকটে ফেলে দিয়েছ। তুমি যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছ, তা জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তুমি আমাদের ঐক্য নষ্ট করেছ। তুমি আমাদের ধর্ম, উপাস্য ও পূর্বপুরুষদের অমান্য কর এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বল। তুমি আরবের মধ্যে আমাদের বদনাম করেছ, অন্যরা বলাবলি করছে, কুরাইশ গোত্রে একজন যাদুকর বা গণকের আবির্ভাব হয়েছে। শোনো, আমি তোমাকে কয়েকটি প্রস্তাব দিচ্ছি, তুমি এগুলোর মধ্যে যে কোনোটা বেছে নিতে পার, বিনিময়ে তুমি এজাতীয় কথা আর বলবে না।

নবীজী বললেন, আপনি কী বলতে চান বলুন, আমি শুনছি।

উতবা বলল, ভাতিজা, তুমি যদি এ দাওয়াতের মাধ্যমে ধন-সম্পদ কামাতে চাও, তাহলে আমরা সবাই মিলে তোমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সবচেয়ে ধনী বানিয়ে দেব। যদি শাসনক্ষমতা চাও, তাহলে আমরা তোমাকে সরদার হিসেবে গ্রহণ করব এবং তোমার সব কথা মেনে চলব। যদি তুমি রাজত্ব চাও, তাহলে তোমাকে রাজত্বও দেব। আর যদি এটা তোমার ওপর জিনের আছর হয়ে থাকে, যার চিকিৎসা তুমি করাতে পারছ না, তাহলে আমরা তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।

উতবার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে শুনলেন, তারপর বললেন, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে?

সে বলল, হাঁ।

নবীজী বললেন, এবার তাহলে আমার কথা শুনুন।

সে বলল, অবশ্যই শুনব।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে কিছু না বলে, সূরা হা-মীম-সাজদা (সূরা ফুসসিলাত) তিলাওয়াত শুরু করলেন। নবীজী সূরাটির সেজদার আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করে সেজদা আদায় করলেন। উতবা চুপ করে পুরোটা শুনল। তিলাওয়াত শেষ হলে নবীজী বললেন, আবুল ওয়ালীদ! আপনি যা শোনার শুনলেন, এখন আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন।

এক বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাটির প্রথম তেরো আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তখন উতবা বলে ওঠল, আমার প্রতি দয়া করুন, আর পাঠ করবেন না।

এরপর নবীজীর কাছ থেকে উঠে উতবা নিজের লোকদের কাছে গেল। উতবাকে দেখে তার সাথিরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, আবুল ওয়ালীদের চেহারা তো বিবর্ণ হয়ে গেছে। উতবা তাদের কাছে গেলে তারা বলল, কী খবর বলুন!

উতবা বলল, তোমাদের যা যা বলার ছিল, আমি তাকে সবই বলেছি।

তারা জিজ্ঞেস করল, সে কী উত্তর দিয়েছে?

উতবা বলল, সে কী বলেছে, আমি তা বুঝি নাই। শুধু এতটুকু বুঝেছি যে, সে বলেছে-
فَاِنْ اَعْرَضُوْا فَقُلْ اَنْذَرْتُكُمْ صٰعِقَةً مِّثْلَ صٰعِقَةِ عَادٍ وَّ ثَمُوْدَ.
[তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করেছি তেমনি বজ্র সম্পর্কে, যেমন বজ্র অবতীর্ণ হয়েছিল আদ ও ছামূদ (জাতি)র ওপর। -সূরা মুমিন (৪১) : ১৩।]

আমি তার মুখে এমন কিছু শুনেছি, যা জীবনে কখনো শুনিনি। কসম করে বলছি, সেটা জাদু নয়, কবিতা নয়, শয়তান থেকে অর্জিত কিছুও নয়।

তারা বলল, আবুল ওয়ালীদ, আপনি কী বলছেন!? সে আপনার ভাষায়ই আপনার সাথে কথা বলেছে, তাও আপনি কিছু বুঝতে পারেননি?

উতবা বলল, আমি বজ্র সম্পর্কিত সতর্কবাণী ছাড়া আর কিছুই বুঝতে পারিনি।

তারপরে সে সবার উদ্দেশ্যে বলল, হে কুরাইশের লোকজন! তোমরা আমার কথা মেনে নাও। আমার মত হলো, তোমরা তার বিরুদ্ধে যেয়ো না। তার ওপর নির্যাতন করো না। তাকে তার কাজ করতে দাও। কারণ তার এ কাজের বিশেষ একটা প্রভাব প্রকাশ পাবেই।

তোমরা অপেক্ষা করে অন্যান্য আরবদের আচরণ দেখ। যদি তারা তোমাদের সাহায্য ছাড়াই তাকে পরাজিত করে ফেলে, তাহলে তোমাদের উদ্দেশ্য তো পূরণ হয়েই গেল। আর সে যদি সবার ওপরে বিজয়ী হয়ে যায়, তাহলে তার রাজত্ব তো তোমাদেরই রাজত্ব। তার সম্মান-মর্যাদা তো তোমাদেরই সম্মান-মর্যাদা। তখন তোমরা তার সাফল্যের অংশীদার হবে।

উতবার কথা শুনে অন্যরা বলল, আবুল ওয়ালীদ! মুহাম্মাদ তো আপনাকে কথা দিয়ে জাদু করে ফেলেছে।

উতবা বলল, আমি আমার মতামত বললাম। এবার তোমাদের যা ইচ্ছে কর।

অন্য বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে উঠে উতবা নিজের ঘরে গিয়ে আত্মগোপনে থাকল। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বন্ধ করে দিল। তখন আবু জেহেল অন্যান্য কুরাইশ লোকদেরকে বলল, উতবা তো মনে হচ্ছে মুহাম্মাদের ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছে। তার কাছ থেকে সে যা খেয়েছে, তা তাকে মোহিত করে ফেলেছে। চলো তার কাছে যাই। সবাই উতবার কাছে গেল।

আবু জেহেল তাকে বলল, উতবা! তুমি নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছ আর তার খাবার তোমাকে বিমোহিত করে ফেলেছে। তোমার যদি কোনো প্রয়োজন থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে এত ধন-সম্পদ দেব যে, মুহাম্মাদের খাদ্য তোমাকে গ্রহণ করতে হবে না।

উতবা রেগে গেল এবং ‘মুহাম্মাদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সঙ্গে আর কখনো কথা বলবে না’- বলে কসম করল। তারপরে বলল, তোমরা জানো, আমি কুরাইশের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। আমি তাকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলাম, এর জবাবে সে আমাকে যা শোনাল, তা কোনো কবিতা নয়, জাদু নয়, জিনদের থেকে প্রাপ্ত কিছুও নয়।

এরপর সে একটি সূরা পড়ল এবং এই আয়াত পর্যন্ত পড়ল-
فَاِنْ اَعْرَضُوْا فَقُلْ اَنْذَرْتُكُمْ صٰعِقَةً مِّثْلَ صٰعِقَةِ عَادٍ وَّ ثَمُوْدَ.
তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করেছি তেমনি বজ্র সম্পর্কে, যেমন বজ্র অবতীর্ণ হয়েছিল আদ ও ছামূদ (জাতি)র ওপর। -সূরা মুমিন (৪১) : ১৩

তখন আমি তাকে দয়া করে থেমে যেতে বললাম। তোমরা তো জানোই, মুহাম্মাদ কখনো মিথ্যা বলে না। তাই আমি তোমাদের ওপর আযাব আসার ভয় করছি।  

তথ্যসূত্র : সীরাতে ইবনে হিশাম ১/২৬১-২৬২; ১/২৯৩-২৯৪; ২/১৩০-১৩২; মুসনাদে আবু ইয়া‘লা, হাদীস ১৮১৮; সূরা হা-মীম সাজদার তাফসীর তাফসীরে তবারী, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে বাগাবী, তাফসীরে ইবনে কাসীর 


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।