বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এনসিএসসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে আফরোজা খানম বলেন, এই নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে জড়িত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএওর নির্ধারিত মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি স্ক্যানার ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধভাবে লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়।
সভায় যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়।ঔব
ডেস্ক রিপোর্ট