হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.৭০ ডলারে পৌঁছায়, যা দিনের ব্যবধানে প্রায় ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। শুক্রবার এশিয়ার বাজার খোলার পর কিছুটা নামলেও গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টায় দর ছিল ১০১.১২ ডলার।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে হামলা চালায় এবং পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর আঘাত হানে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক সদর দফতর পাল্টা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও পার্শ্ববর্তী আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং কেশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকেই হরমুজ প্রণালিতে বড় তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এরই মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার প্রভাব শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক সবগুলোই ১ শতাংশের বেশি পতনের শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে — আগের দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৪ শতাংশ কমে যায়।
ডেস্ক রিপোর্ট