হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। সম্ভাব্য একটি চুক্তির আওতায় উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের চলাচল ব্যবস্থাপনায় তেহরানের ভূমিকা বাড়তে পারে। তবে চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বুধবার ৫ আগস্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা খুবই কাছাকাছি। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের প্রবেশাধিকার ইরানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত নন।
আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, ভবিষ্যতে উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের চলাচল আঞ্চলিক জলসীমার নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে পারে।
ইরানি সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই উন্মুক্ত ছিল।
এদিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতেই ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। একটি উপসাগরীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এর আগে ইরান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী কিছু বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
ডেস্ক রিপোর্ট