জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এই দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রোববার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম ভিত্তি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়।
ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং পরবর্তী গণভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। সেই গণরায় বাস্তবায়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংস্কার সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এর পরিবর্তে সীমিত ক্ষমতার সংসদীয় ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও কার্যপরিধি রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করে এবি পার্টি।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ওই কমিটির সামনে মতামত দেওয়াকে গণভোটের রায়ের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছে না দলটি।
এবি পার্টি জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়া উচিত। এ অবস্থান থেকেই ২০ সেপ্টেম্বরের মতবিনিময় সভায় দলটির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না।
দলটির বক্তব্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ, জনগণের প্রত্যাশা এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।