মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদির পাশে তুরস্ক
হুথি হামলা মোকাবিলায় সৌদির সামরিক প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুতির কথা জানালেন ফিদান
- আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১০:৪১:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১০:৪১:৪৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৮ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। চুক্তির আওতায় সৌদির কিছু সামরিক প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ক্ষেত্রে, দেখা দিলে তা পূরণে তুরস্কের আপত্তি নেই।
গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এমন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ইয়েমেনের হুথিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা ও শহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। শনিবার হুথিরা রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি হামলা ঠেকানো হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলেও পড়ছে। বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার ফলে লোহিত সাগর দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফিদান বলেন, সৌদি আরব এই সংঘাতের অংশ হতে না চাইলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তুরস্ক জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত হতে পারে। তবে এটি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি।
এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদির ওপর হুথি হামলার পর মক্কা চুক্তির আওতায় তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে প্রয়োজন হলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।