বাগেরহাটে কুমির-কুকুর ঘটনা: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে অপতথ্যের বিস্তার
- আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৪:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৪:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭৭ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘীতে কুমিরের একটি কুকুর ধরে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছে। তবে মাজার কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত নয়; বরং এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা সেটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে কুকুরটি দৌড়ে দিঘীর ঘাটের দিকে চলে যায়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দিলে তিনি পা সরিয়ে নেন, ফলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। পরে দিঘীতে থাকা কুমিরটি সেটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। এই মুহূর্তটির ভিডিও ধারণ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি এর আগে কয়েকজন মানুষকে আক্রমণ করার পাশাপাশি আশপাশে মুরগিও মেরে ফেলেছিল এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কুকুরটি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানিতে পড়ে যায়।
নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনার সময় তিনি লোকজনকে সতর্ক করছিলেন এবং কুকুরটির আঁচড়ে আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একইসঙ্গে স্থানীয় দোকানি ও বাসিন্দারাও জানান, কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে আক্রমণ করেছিল, যার মধ্যে একটি শিশুও ছিল।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা তার পা বেঁধে পানিতে ফেলা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে দিঘীতে একটি মাত্র কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকা এই কুমিরটি সাধারণত মানুষের উপস্থিতিতে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না, তবে এটি একটি বন্য প্রাণী হওয়ায় যেকোনো সময় আচরণ পরিবর্তন করতে পারে।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত হলেও সামাজিক মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচারের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।