মার্কিন সামরিক হামলার পরও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বীপে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও তেল রফতানি কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হয়নি এবং কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানের সংসদীয় শক্তি কমিটির এক মুখপাত্রের বরাতে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার পরও খার্গ দ্বীপে তেল প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন যাতে তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ওই মুখপাত্র বলেন, খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে আবার কোনো আক্রমণের চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালীতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার চেয়েও বড় প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে প্রতিপক্ষ।
গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, খার্গ দ্বীপে পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমেই রফতানি করা হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এর প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
পরিস্থিতির জেরে ইরান বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা মূলত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও এতে বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট