ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি)-এর প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই সঙ্গে নিজের অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
পদত্যাগপত্রে জো কেন্ট উল্লেখ করেন, নীতিগত ও ব্যক্তিগত বিবেকবোধের কারণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না। তার ভাষায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না এবং এ সংঘাতে যুক্ত হওয়ার পেছনে অন্য প্রভাব কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং প্রচারণার কারণে এই সামরিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। তার মতে, প্রশাসনের শুরুতে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে।
জো কেন্ট জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি একজন সাবেক স্পেশাল ফোর্সেস কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ব্যক্তিগত জীবনেও যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে—তার স্ত্রী শ্যানন কেন্ট ২০১৯ সালে সিরিয়ার মানবিজে এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন।
পদত্যাগপত্রে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের কিছু সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন, যেমন ইরানের সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হত্যার অভিযান এবং আইএসআইএসবিরোধী অভিযান। তবে তার অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে।
কেন্ট সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো ভুল সিদ্ধান্ত আবারও নেওয়া হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তার মতে, ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমান নীতিনির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ডেস্ক রিপোর্ট