ঝিনাইদহে তেল নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা: পাম্পশ্রমিকদের হামলায় যুবকের মৃত্যু, আটক ৩
- আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৪:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৪:৫০:২২ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের জেরে ঝিনাইদহ শহরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নিতে গিয়ে পাম্পশ্রমিকদের হামলায় নীরব হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত নীরব কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শহরের বকুলতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এই ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন পাম্পশ্রমিককে আটক করেছে র্যাব-৬।
নিহতের বন্ধুদের ভাষ্যমতে, রাতে নীরব ও তাঁর এক বন্ধু মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। তখন পাম্পশ্রমিকরা জানান যে তেল নেই এবং পাম্প বন্ধ। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁরা দেখতে পান, সাধারণ গ্রাহককে তেল না দিলেও গোপনে বোতলে করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করে নীরব ও তাঁর বন্ধুরা শ্রমিকদের প্রশ্ন করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পাম্পশ্রমিকরা লাঠি দিয়ে নীরবকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। আহত অবস্থায় বাসায় ফিরে নীরব অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন জানান, হাসপাতালে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নীরবের মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কানের নিচে ও মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভ্যন্তরীণ আঘাতই মৃত্যুর কারণ। এদিকে ঘটনার পর র্যাব-৬-এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, পাম্পশ্রমিক নাছিম হোসেন, রমিজুল ইসলাম ও দাউদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশজুড়ে চলমান তেলের কৃত্রিম সংকটের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহতের বন্ধু আশিক এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পাম্পমালিক হারুন অর রশিদ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন তবে বিস্তারিত এখনো জানেন না। তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং এই নৃশংস হামলার প্রতিবাদে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।