অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য তাদের জন্য বরাদ্দকৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ আরও বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু বা বাতিলের বিষয়টি মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের লাল পাসপোর্ট বাতিলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধানের আলোকে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। গত ২১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা বর্তমান সরকারের অধীনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে যেতে চান, তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের কঠোর যাচাইকরণ শিথিলযোগ্য হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা শেষ হয়ে আসায় এবং সামনে নির্বাচন থাকায় উপদেষ্টারা তাদের ভবিষ্যৎ বিদেশ ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত কাজের সুবিধার্থেই সাধারণ নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন। উল্লেখ্য, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাও সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেছেন। অনেক উপদেষ্টার আবেদন বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা নতুন পাসপোর্ট হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট