বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের আগে শেষ ধাপের নিরাপত্তা যাচাই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ‘কমপ্রিহেনসিভ সেফটি সিস্টেম টেস্ট’ নামের এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সব সুরক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং পর্যায়ের একটি বড় কারিগরি মাইলফলক অর্জিত হলো।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই পরীক্ষায় রিয়্যাক্টর বিল্ডিংয়ের কনটেইনমেন্ট ইন্টিগ্রিটি, অভ্যন্তরীণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফুয়েল পুল সেফটি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কর্মক্ষমতা নকশাভিত্তিক ও বর্ধিত পরিস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে।
ড. জাহেদুল হাসান বলেন, পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ণ কনটেইনমেন্ট ও হাইড্রোলিক আইসোলেশন নিশ্চিত করা। পরীক্ষাকালে উচ্চ প্রবাহ হার ও দীর্ঘ সময় স্প্রিংকলার চালু থাকার ফলে সৃষ্ট পানি যেন কনটেইনমেন্টের সুরক্ষিত জোনে প্রবেশ না করে এবং ভেতরে জমা পানি কোনোভাবেই বাহিরের পরিবেশে নির্গত না হয়—এই দুটি বিষয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে কনটেইনমেন্ট ওয়াল, সিলিং জয়েন্ট, ড্রেনেজ আইসোলেশন ও ওয়াটার-টাইট ব্যারিয়ার সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষার অংশ হিসেবে রিয়্যাক্টর হলের ওপর স্থাপিত স্প্রিংকলার সিস্টেম নির্ধারিত চাপ ও ডিজাইন ফ্লো রেটে টানা ১২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হয়। এতে নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ প্লাবন সৃষ্টি হয়, যা চরম দুর্ঘটনা ও অগ্নি নির্বাপন পরিস্থিতির বাস্তবসম্মত অনুকরণ। এই সময় স্প্রিংকলার নোজল, পাইপিং, যান্ত্রিক স্থায়িত্ব এবং সাপোর্ট স্ট্রাকচারের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়।
ফুয়েল পুল সেফটি যাচাই প্রসঙ্গে জানানো হয়, স্পেন্ট ফুয়েল পুলের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রা সীমা, তাপ অপসারণ সক্ষমতা এবং কুলিং সিস্টেমের ধারাবাহিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ বন্যা পরিস্থিতিতেও ফুয়েল পুল নিরাপদ অপারেশনাল সীমার মধ্যে কার্যক্রম বজায় রাখতে সক্ষম।
স্বয়ংক্রিয় সেফটি সিস্টেমের ক্ষেত্রে সেন্সর থেকে প্রাপ্ত সংকেত অনুযায়ী কোনো মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্প্রিংকলার সক্রিয়করণ, ভালভ নিয়ন্ত্রণ, অ্যালার্ম ও মনিটরিং সিস্টেম নির্ধারিত কন্ট্রোল লজিক অনুসরণ করে কাজ করেছে। এতে রিডানডেন্সি ও ফল্ট-টলারেন্স নীতির সফল প্রয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।
এনপিসিবিএল জানায়, এর আগে কোল্ড রান ও হট রান সফলভাবে শেষ হওয়ার পর এই পরীক্ষা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মান এবং প্রকল্পের নকশাগত চাহিদা অনুসারে নিউক্লিয়ার সেফটি, অপারেশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিম পুরো পরীক্ষাটি নিবিড়ভাবে তদারকি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট