যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেওয়া এই বক্তব্য নতুন করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই খামেনির এই অবস্থান সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্ব প্রায়ই রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা বললেও এতে ইরানি জাতি ভীত নয়। তার ভাষায়, এসব হুমকি ইরানের জনগণকে বিচলিত করতে পারবে না।
খামেনি আরও বলেন, ইরান কখনোই আগ্রাসনের সূচনাকারী নয় এবং কোনো দেশের ওপর হামলার ইচ্ছা তাদের নেই। তবে কেউ যদি আক্রমণ বা চাপ প্রয়োগ করে, সেক্ষেত্রে ইরান কঠোর ও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এই সামরিক উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এমন আলোচনায় প্রস্তুত, যা ন্যায্য হবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তত ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
একই সময়ে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এসব প্রতিবেদনে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ‘রেজিম চেঞ্জ’ কৌশলের কথাও উঠে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক আরব দেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। ফলে অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ডেস্ক রিপোর্ট